Limited-Time Discount | Enroll today and learn risk-free with our 30-day money-back guarantee.

Login

SIGN UP for FREE

ORDER NOW

Login
thumbnail

ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে ক্রিয়েটিভ হয়ে ওঠে

সত্যজিত রায় তার প্রথম গল্প লিখেছিলেন ইংরেজিতে। নাম এবষ্ট্রাকশন। বিষয় একজন চিত্রশিল্পী। শুরুতে তাকে দেখা যায় খবরের কাগজ হাতে। সেটা যে উল্টোদিকে ধরা সেটাও লক্ষ্য করেননি। শিল্পীরা মনভোলা হন এটাই স্বাভাবিক। আসলে তিনি একটি ছবি আঁকা নিয়ে চিন্তিত।
ঘরে বসে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন

ই-লার্ন বাংলাদেশ এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স করুন

বিভিন্ন বিষয় শিখতে এখন আর ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে ঘরে বসেই শিখুন বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল মানের কাজ।

বিস্তারিত পড়ুন
এক প্রদর্শনীর জন্য তিনি ছবি আঁকছেন। তার নিজেরই খুব পছন্দ হল আঁকার পর। সেটা প্যাকেট করে পাঠিয়ে ঘরে ফিরলেন। কয়েকদিনের অগোছালো ঘর পরিস্কার করতে গিয়ে তার চক্ষুস্থির। তার ছবিটা পরে রয়েছে চেয়ারের নিয়ে। ভুল করে অন্যকিছু পোষ্ট করে এসেছেন।
বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তিনি পরবর্তী কয়েকদিন কাটালেন। একদিন প্রদর্শনীতে গেলেন তেমন আগ্রহ ছাড়াই। পুরো প্রদর্শনী ঘরে দেখলেন। সবশেষে এসে দাড়ালেন একেবারে শুরুতে পুরস্কার পাওয়া যে ছবি রয়েছে তার সামনে। তিনি বুঝলেন না সেটা কিসের ছবি। একসময় দৃষ্টি গেল শিল্পীর নামের দিকে, তার নিজের নাম লেখা।
তিনি কিছুতেই মনে করতে পারলেন না কখন এই ছবি একেছেন। এরপর হঠাৎ করে চিনলেন ছবিটাকে। যে কাগজে তিনি রং পরীক্ষা করতেন এটা সেই কাগজ। ছবির বদলে ভুলে এটাকেই তিনি পাঠিয়েছেন।
আসলে এটা গল্প। বাস্তবে এমন ঘটনা খুব কম নেই। সবচেয়ে বড় উদাহরন নিশ্চয়ই সালভাদর দালি। ব্যঙ্গচিত্র এবং বিমুর্তচিত্র দুবিষয়েই তিনি বিশ্বখ্যাত। তিনি একেছেন একথা শুনলেই বহু দামে ছবি বিক্রি হয়। তার বিমুর্ত ছবি আঁকার বর্ননা দিয়েছেন একজন গৃহকর্মী।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে ভিডিও টি দেখুন

আরও ভিডিও
বিজ্ঞাপন
ক্যানভাস ঠিক করলেন। বন্দুকে বিভিন্নরকম রং ভরলেন। কয়েক পা দুরে দাড়ালেন। গুলি ছুড়লেন। দুম। হয়ে গেল ছবি।
ধারনা করতে পারেন এই ছবির টাকা গুনে তিনি যতটা খুশি হয়েছেন তারচেয়ে বেশি মজা পেয়েছেন যখন তার ছবির নানারকম ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
আপনি যখন গ্রাফিক ডিজাইনার তখন খুবই সম্ভাবনা এধরনের পরিস্থিতির সামনে পরার। একটা উদাহরন দেখা যাক। ষ্টিভ জবস সম্পর্কে প্রচলিত গল্প, তিনি পুরনো কিছু যন্ত্রপাতি কিনে পরিত্যক্ত এক গ্যারেজে ল্যাবরেটরী চালূ করেছিলেন। সেখানে বসে একদিন কোম্পানীর চিন্তা করেন। কি নাম দেবেন ভাবতে গিয়ে হাতের আধখাওয়া আপেলের নামটাই পছন্দ হল।
বর্তমানের হিসাব আলাদা। কেউ লোগো ডিজাইন করতে বলার সময় সরাসরি বলে বসেন এপলের মত লোগো চাই। একজন বিশ্লেষক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিলেন, প্রযুক্তির প্রতিক হিসেবে আপেলের সাথে কোনকিছুর তুলনাই হয় না। এই আপেলের কারনে আদম-ইভ স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসেছেন। এই আপেলের কারনে নিউটন মাধ্যাকর্ষন সুত্র আবিস্কার করেছেন।
আমি নিশ্চিত, কোন প্রযুক্তি কোম্পানীর লোগো ডিজাইনের সময় যদি ফলের ছবি ব্যবহার করেন তিনি ধমকে উঠবেন, প্রযুক্তির সাথে ফলের সম্পর্ক কি ?
ফেসবুকের মত লোগো আকলে বললেন, আমার ৬ মাসের ছেলে এরচেয়ে ভালো পারে। আপনি যখন লোগো ডিজাইনার তখন এই বিষয়গুলিকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। আপনাকে যখন ক্রমাগত বলা হচ্ছে এপলের মত লোগো চাই, ফেসবুকের মত লোগো চাই, নাইকের মত লোগো চাই, তখন আপনি বিভ্রান্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
এক ব্যক্তি নাকি ষ্টুডিওতে গিয়ে বলেছিলেন, এমনভাবে ছবি উঠান যেন নায়করাজ রাজ্জাক মনে হয়। তিনি তারহাতে রাজ্জাকের ছবি দিয়ে বলেছিলেন, নিচে নিজের নাম লিখে নিন। একাজ করলে আপনি নিজে মজা পেতে পারেন, টাকা পাবেন না।
সমাধান খুজতে পারেন এভাবে। তিনি কি বলেছেন সেকথা ভুলে যান। নিজেই ভাবুন কিভাবে ভাল লোগো ডিজাইন করা যেতে পারে। কি ভেবে সেটা একেছেন তাকে জানান। এতে যদি কাজ না হয় ডিজাইন রেখে দিন। অন্যকেউ পছন্দ করবেন। শিবরামের সেই গল্পের কথা মনে করতে পারেন। তেল কিনেছেন চুল ওঠা বন্ধ করার জন্য। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন মাথার সমস্ত চুল পরচুলার মত খসে গেছে।
কি আর করবেন। একজন বাতব্যথার রোগির কাছে বাকি তেলটা বিক্রি করে দিলেন। এই লেখা পড়ে মনে হতে পারে লোগো ডিজাইনের জন্য খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই। এটা ভুল ধারনা। দক্ষ লোগো ডিজাইনার নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশের জন্য ডিজাইন করেন। এজন্য নানারকম হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে ক্রিয়েটিভিটি অমুল্য সম্পদ। অনেক ক্লায়েন্ট মুলত নতুন ধারনা পাওয়ার জন্যই নিয়মিত কর্মীর বদলে ফ্রিল্যান্সারের খোজ করেন। অথচ অনেক ফ্রিল্যান্সারেরই অভিজ্ঞতা, আশানুরুপ নতুন কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো কখনো মনে হয় নতুন কিছু মাথায় আসছে না।
এই সমস্যার সহজ কোন সমাধান নেই। বরং সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কিছু কারন মানুষের জানা। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারের বিভিন্ন কাজের পরিবেশ, প্রত্যাসা এবং সফলতা নানাভাবে পর্যালোচনা করে এগুলি পাওয়া গেছে।
প্রধান ৫টি কারন এখানে তুলে ধরা হচ্ছে

একসাথে একাধিক কাজ করা অনেকেই মনে করেন একসাথে অনেকগুলি কাজ করতে পারা (মাল্টিটাস্কিং) বড় যোগ্যতা। কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা হলেও সবাই লিওনার্দো দা ভিঞ্চি নন। তিনি একইসাথে দুহাতে দুটি ভিন্ন বিষয়ে লিখতে পারতেন। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে একসাথে একাধিক কাজ করার চেষ্টা করলে প্রতিটি কাজেই মনোযোগে ভাটা পড়ে। সৃজনশীল কাজ যেখানে বিষয় সেখানে এই সমস্যা আরো প্রকট। আপনার জন্য মাল্টিটাস্কিং সমস্যা কিনা যাচাই করে নিন। কাজের সময় ফোন রিসিভ করাও অনেকে ক্ষতিকর মনে করেন। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইমেইল যোগাযোগ ঠিক রেখে বাকিগুলি বন্ধ করে দিন। এ কাজ শেষ হলে অন্য কাজগুলি করুন। সহজ একটি উদাহরন দেখা যাক, দুঘন্টা মনোযোগ দিয়ে যে কাজ শেষ করা যায় সেই কাজ মাল্টিটাস্কিং এ ৮ ঘন্টা লাগতে পারে। কোনটি লাভজনক হিসাব করে নিন।
কম ঘুমঃ
ফ্রিল্যান্সারকে অনেক সময়ই অনিয়মিত কাজ করতে হয়। ফলে রাতের ঘুম নিয়ে সমস্যায় পরতে হয়। এর প্রভাব পড়ে মনোযোগের ওপর। এবিষয়ে পরামর্শ একেবারে নির্দিষ্ট। ঘুমের সমস্যা করে কাজ করবেন না। রাতের ঘুম ঠিক রেখে প্রয়োজনে সকালে উঠে করার চেষ্টা করুন।
ক্লায়েন্টের সমালোচনার ভয়ঃ
সম্ভবত প্রতিটি ফ্রিল্যান্সারকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ক্লায়েন্ট যখন সমালোচনা করছেন তখন আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। সবসময়ই মনে হচ্ছে এভাবে করলে তিনি পছন্দ নাও করতে পারেন। বিষয়টিকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। তিনি যদি সমালোচনা করেনই তাহলে সবচেয়ে বেশি যা হতে পারে, সেকাজটি হাতছাড়া হতে পারে। নিজেকে বিশ্বাস করার আপনি সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন, প্রয়োজনে আরো করবেন। হয়থ তিনি যেকথা বলেছেন সেটাই ঠিক। আপনার কাজ যথেষ্ট ভাল হয়নি। সমালোচনাকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। বিশ্বের প্রতিটি মানুষই ভুল করেন, এমন কিছু করেন যা আসলেই সমালোচনাযোগ্য।
আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকাঃ
এই সমস্যার সমাধান ইচ্ছে করলেই করা যায় না। যদি নিজের খরচ চালানোর মত আয় না হয় এবং অন্য কোন আয়ের উতস না থাকে, সহায়তা করার মত কেউ না থাকে তাহলে এর প্রভাব কাজে পরতে বাধ্য। এই সমস্যা সমাধানে সার্বজনিন নিয়ম মেনে চলতে চেষ্টা করুন। যে কাজে সম্ভাবনা বেশি, অর্থ বেশি সেদিকে বেশি মনোযোগ দিন। পরিমানে কম, অর্থে বেশি এমন কাজের চেষ্টা করুন। কিছু সঞ্চয় করুন।
সময়মত কাজ শেষ করার চাপঃ
কাজের পরিমানের তুলনায় যদি হাতে সময় কম থাকে তাহলে এর প্রভাব কাজে পরতে বাধ্যভ প্রচলিত প্রবাদ, তাড়াহুড়ার কাজ ভাল হয় না। অথচ আপনার সাফল্য নির্ভর করছে ভাল কাজের ওপর। কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কাজে হাত দিন। যে কাজে ৪ দিন সময় লাগার কথা সেকাজের জন্য আগেই ৬ দিন সময় নিন। কাজ ঠিক ঠিকবে, ক্লায়েন্ট খুশি থাকবেন।
আশা করি আমার ব্লগটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। আমাদের এরকম আরও হেল্পফুল ব্লগ পড়তে ই-লার্ন এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

|| Design by Mamunur Rashid ||

Payment
গ্রাফিক ডিজাইন ওয়েব ডিজাইন আউটসোর্সিং এম এস অফিস কম্পিউটার টিপস ফটো এডিটিং
thumbnail

ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে ক্রিয়েটিভ হয়ে ওঠে

সত্যজিত রায় তার প্রথম গল্প লিখেছিলেন ইংরেজিতে। নাম এবষ্ট্রাকশন। বিষয় একজন চিত্রশিল্পী। শুরুতে তাকে দেখা যায় খবরের কাগজ হাতে। সেটা যে উল্টোদিকে ধরা সেটাও লক্ষ্য করেননি। শিল্পীরা মনভোলা হন এটাই স্বাভাবিক। আসলে তিনি একটি ছবি আঁকা নিয়ে চিন্তিত।
ঘরে বসে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন

ই-লার্ন বাংলাদেশ এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স করুন

বিভিন্ন বিষয় শিখতে এখন আর ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে ঘরে বসেই শিখুন বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল মানের কাজ।

বিস্তারিত পড়ুন
এক প্রদর্শনীর জন্য তিনি ছবি আঁকছেন। তার নিজেরই খুব পছন্দ হল আঁকার পর। সেটা প্যাকেট করে পাঠিয়ে ঘরে ফিরলেন। কয়েকদিনের অগোছালো ঘর পরিস্কার করতে গিয়ে তার চক্ষুস্থির। তার ছবিটা পরে রয়েছে চেয়ারের নিয়ে। ভুল করে অন্যকিছু পোষ্ট করে এসেছেন।
বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তিনি পরবর্তী কয়েকদিন কাটালেন। একদিন প্রদর্শনীতে গেলেন তেমন আগ্রহ ছাড়াই। পুরো প্রদর্শনী ঘরে দেখলেন। সবশেষে এসে দাড়ালেন একেবারে শুরুতে পুরস্কার পাওয়া যে ছবি রয়েছে তার সামনে। তিনি বুঝলেন না সেটা কিসের ছবি। একসময় দৃষ্টি গেল শিল্পীর নামের দিকে, তার নিজের নাম লেখা।
তিনি কিছুতেই মনে করতে পারলেন না কখন এই ছবি একেছেন। এরপর হঠাৎ করে চিনলেন ছবিটাকে। যে কাগজে তিনি রং পরীক্ষা করতেন এটা সেই কাগজ। ছবির বদলে ভুলে এটাকেই তিনি পাঠিয়েছেন।
আসলে এটা গল্প। বাস্তবে এমন ঘটনা খুব কম নেই। সবচেয়ে বড় উদাহরন নিশ্চয়ই সালভাদর দালি। ব্যঙ্গচিত্র এবং বিমুর্তচিত্র দুবিষয়েই তিনি বিশ্বখ্যাত। তিনি একেছেন একথা শুনলেই বহু দামে ছবি বিক্রি হয়। তার বিমুর্ত ছবি আঁকার বর্ননা দিয়েছেন একজন গৃহকর্মী।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে ভিডিও টি দেখুন

আরও ভিডিও
বিজ্ঞাপন
ক্যানভাস ঠিক করলেন। বন্দুকে বিভিন্নরকম রং ভরলেন। কয়েক পা দুরে দাড়ালেন। গুলি ছুড়লেন। দুম। হয়ে গেল ছবি।
ধারনা করতে পারেন এই ছবির টাকা গুনে তিনি যতটা খুশি হয়েছেন তারচেয়ে বেশি মজা পেয়েছেন যখন তার ছবির নানারকম ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
আপনি যখন গ্রাফিক ডিজাইনার তখন খুবই সম্ভাবনা এধরনের পরিস্থিতির সামনে পরার। একটা উদাহরন দেখা যাক। ষ্টিভ জবস সম্পর্কে প্রচলিত গল্প, তিনি পুরনো কিছু যন্ত্রপাতি কিনে পরিত্যক্ত এক গ্যারেজে ল্যাবরেটরী চালূ করেছিলেন। সেখানে বসে একদিন কোম্পানীর চিন্তা করেন। কি নাম দেবেন ভাবতে গিয়ে হাতের আধখাওয়া আপেলের নামটাই পছন্দ হল।
বর্তমানের হিসাব আলাদা। কেউ লোগো ডিজাইন করতে বলার সময় সরাসরি বলে বসেন এপলের মত লোগো চাই। একজন বিশ্লেষক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিলেন, প্রযুক্তির প্রতিক হিসেবে আপেলের সাথে কোনকিছুর তুলনাই হয় না। এই আপেলের কারনে আদম-ইভ স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসেছেন। এই আপেলের কারনে নিউটন মাধ্যাকর্ষন সুত্র আবিস্কার করেছেন।
আমি নিশ্চিত, কোন প্রযুক্তি কোম্পানীর লোগো ডিজাইনের সময় যদি ফলের ছবি ব্যবহার করেন তিনি ধমকে উঠবেন, প্রযুক্তির সাথে ফলের সম্পর্ক কি ?
ফেসবুকের মত লোগো আকলে বললেন, আমার ৬ মাসের ছেলে এরচেয়ে ভালো পারে। আপনি যখন লোগো ডিজাইনার তখন এই বিষয়গুলিকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। আপনাকে যখন ক্রমাগত বলা হচ্ছে এপলের মত লোগো চাই, ফেসবুকের মত লোগো চাই, নাইকের মত লোগো চাই, তখন আপনি বিভ্রান্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
এক ব্যক্তি নাকি ষ্টুডিওতে গিয়ে বলেছিলেন, এমনভাবে ছবি উঠান যেন নায়করাজ রাজ্জাক মনে হয়। তিনি তারহাতে রাজ্জাকের ছবি দিয়ে বলেছিলেন, নিচে নিজের নাম লিখে নিন। একাজ করলে আপনি নিজে মজা পেতে পারেন, টাকা পাবেন না।
সমাধান খুজতে পারেন এভাবে। তিনি কি বলেছেন সেকথা ভুলে যান। নিজেই ভাবুন কিভাবে ভাল লোগো ডিজাইন করা যেতে পারে। কি ভেবে সেটা একেছেন তাকে জানান। এতে যদি কাজ না হয় ডিজাইন রেখে দিন। অন্যকেউ পছন্দ করবেন। শিবরামের সেই গল্পের কথা মনে করতে পারেন। তেল কিনেছেন চুল ওঠা বন্ধ করার জন্য। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন মাথার সমস্ত চুল পরচুলার মত খসে গেছে।
কি আর করবেন। একজন বাতব্যথার রোগির কাছে বাকি তেলটা বিক্রি করে দিলেন। এই লেখা পড়ে মনে হতে পারে লোগো ডিজাইনের জন্য খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই। এটা ভুল ধারনা। দক্ষ লোগো ডিজাইনার নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশের জন্য ডিজাইন করেন। এজন্য নানারকম হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে ক্রিয়েটিভিটি অমুল্য সম্পদ। অনেক ক্লায়েন্ট মুলত নতুন ধারনা পাওয়ার জন্যই নিয়মিত কর্মীর বদলে ফ্রিল্যান্সারের খোজ করেন। অথচ অনেক ফ্রিল্যান্সারেরই অভিজ্ঞতা, আশানুরুপ নতুন কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো কখনো মনে হয় নতুন কিছু মাথায় আসছে না।
এই সমস্যার সহজ কোন সমাধান নেই। বরং সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কিছু কারন মানুষের জানা। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারের বিভিন্ন কাজের পরিবেশ, প্রত্যাসা এবং সফলতা নানাভাবে পর্যালোচনা করে এগুলি পাওয়া গেছে।
প্রধান ৫টি কারন এখানে তুলে ধরা হচ্ছে

একসাথে একাধিক কাজ করা অনেকেই মনে করেন একসাথে অনেকগুলি কাজ করতে পারা (মাল্টিটাস্কিং) বড় যোগ্যতা। কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা হলেও সবাই লিওনার্দো দা ভিঞ্চি নন। তিনি একইসাথে দুহাতে দুটি ভিন্ন বিষয়ে লিখতে পারতেন। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে একসাথে একাধিক কাজ করার চেষ্টা করলে প্রতিটি কাজেই মনোযোগে ভাটা পড়ে। সৃজনশীল কাজ যেখানে বিষয় সেখানে এই সমস্যা আরো প্রকট। আপনার জন্য মাল্টিটাস্কিং সমস্যা কিনা যাচাই করে নিন। কাজের সময় ফোন রিসিভ করাও অনেকে ক্ষতিকর মনে করেন। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইমেইল যোগাযোগ ঠিক রেখে বাকিগুলি বন্ধ করে দিন। এ কাজ শেষ হলে অন্য কাজগুলি করুন। সহজ একটি উদাহরন দেখা যাক, দুঘন্টা মনোযোগ দিয়ে যে কাজ শেষ করা যায় সেই কাজ মাল্টিটাস্কিং এ ৮ ঘন্টা লাগতে পারে। কোনটি লাভজনক হিসাব করে নিন।
কম ঘুমঃ
ফ্রিল্যান্সারকে অনেক সময়ই অনিয়মিত কাজ করতে হয়। ফলে রাতের ঘুম নিয়ে সমস্যায় পরতে হয়। এর প্রভাব পড়ে মনোযোগের ওপর। এবিষয়ে পরামর্শ একেবারে নির্দিষ্ট। ঘুমের সমস্যা করে কাজ করবেন না। রাতের ঘুম ঠিক রেখে প্রয়োজনে সকালে উঠে করার চেষ্টা করুন।
ক্লায়েন্টের সমালোচনার ভয়ঃ
সম্ভবত প্রতিটি ফ্রিল্যান্সারকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ক্লায়েন্ট যখন সমালোচনা করছেন তখন আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। সবসময়ই মনে হচ্ছে এভাবে করলে তিনি পছন্দ নাও করতে পারেন। বিষয়টিকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। তিনি যদি সমালোচনা করেনই তাহলে সবচেয়ে বেশি যা হতে পারে, সেকাজটি হাতছাড়া হতে পারে। নিজেকে বিশ্বাস করার আপনি সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন, প্রয়োজনে আরো করবেন। হয়থ তিনি যেকথা বলেছেন সেটাই ঠিক। আপনার কাজ যথেষ্ট ভাল হয়নি। সমালোচনাকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। বিশ্বের প্রতিটি মানুষই ভুল করেন, এমন কিছু করেন যা আসলেই সমালোচনাযোগ্য।
আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকাঃ
এই সমস্যার সমাধান ইচ্ছে করলেই করা যায় না। যদি নিজের খরচ চালানোর মত আয় না হয় এবং অন্য কোন আয়ের উতস না থাকে, সহায়তা করার মত কেউ না থাকে তাহলে এর প্রভাব কাজে পরতে বাধ্য। এই সমস্যা সমাধানে সার্বজনিন নিয়ম মেনে চলতে চেষ্টা করুন। যে কাজে সম্ভাবনা বেশি, অর্থ বেশি সেদিকে বেশি মনোযোগ দিন। পরিমানে কম, অর্থে বেশি এমন কাজের চেষ্টা করুন। কিছু সঞ্চয় করুন।
সময়মত কাজ শেষ করার চাপঃ
কাজের পরিমানের তুলনায় যদি হাতে সময় কম থাকে তাহলে এর প্রভাব কাজে পরতে বাধ্যভ প্রচলিত প্রবাদ, তাড়াহুড়ার কাজ ভাল হয় না। অথচ আপনার সাফল্য নির্ভর করছে ভাল কাজের ওপর। কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কাজে হাত দিন। যে কাজে ৪ দিন সময় লাগার কথা সেকাজের জন্য আগেই ৬ দিন সময় নিন। কাজ ঠিক ঠিকবে, ক্লায়েন্ট খুশি থাকবেন।
আশা করি আমার ব্লগটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। আমাদের এরকম আরও হেল্পফুল ব্লগ পড়তে ই-লার্ন এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

আপনার মতামত লিখুনঃ