Limited-Time Discount | Enroll today and learn risk-free with our 30-day money-back guarantee.

Login

SIGN UP for FREE

ORDER NOW

Login
thumbnail

প্রেজেন্টেশন তৈরির আগে আপনার করনীয়

অফিস বা ক্লাসে পাওয়ার পয়েন্টে তৈরি প্রেজেন্টেশন আজকাল অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যে কোন সাধারণ বিষয়কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করে তুলতে পারে অত্যন্ত আকর্ষণীয় অথবা দুর্বোধ্য বিষয়কে করে তুলতে পারে সহজে। এই পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরিতে আমরা কিছু সাধারণ ভুল করে থাকি যা মনোযোগ নষ্ট করে দর্শকের। তাই জেনে নিন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির কিছু প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কে।
ঘরে বসে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন

ই-লার্ন বাংলাদেশ এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স করুন

বিভিন্ন বিষয় শিখতে এখন আর ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে ঘরে বসেই শিখুন বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল মানের কাজ।

বিস্তারিত পড়ুন
সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশনের জন্য একটি টেম্পলেট নির্বাচন করুনঃ
এক এক স্লাইডে এক এক ডিজাইনের টেম্পলেট, আপনার প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করার চেয়ে অসুন্দরই করে তুলে বেশি। তাই একটি মার্জিত এবং দৃষ্টিনন্দন টেম্পলেট নির্বাচন করুন সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশনের জন্য।
কালো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করবেন নাঃ
কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা অথবা অন্যান্য রঙ কম্পিউটারে স্পষ্ট বুঝা গেলেও যখন প্রজেক্টর দিয়ে উপস্থাপন করা হয় তখন তা ঝাপসা হয়ে পড়ে। তাই কালো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স ব্যবহার করুনঃ
শুধুমাত্র লেখা দিয়ে স্লাইড পূর্ণ না করে, উপযুক্ত স্থানে চার্ট, টেবিল, গ্রাফ ইত্যাদি যোগ করুন। এতে আপনার প্রেজেন্টেশনের প্রতি দর্শকের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে ভিডিও টি দেখুন

আরও ভিডিও
বিজ্ঞাপন
ছবি যোগ করুনঃ
একটি উপযুক্ত ছবি অসংখ্য কথার চেয়ে বেশি মনোভাব প্রকাশ করতে পারে। তাই স্লাইডে প্রাসঙ্গিক ছবি যোগ করুন। তবে অতিরিক্ত ছবি দর্শকের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে তাই সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।
ফন্ট নির্বাচনে সতর্ক হনঃ
প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করার জন্য অনেক সময় আমরা কম প্রচলিত ফন্ট ব্যবহার করি বা ইন্টারনেট থেকে ফন্ট ডাউনলোড করে নিই। যদি কম্পিউটার পরিবর্তন হয় তখন দেখা যায় সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশনটিই এলোমেলো হয়ে পড়েছে। তাই, Arial বা Times new roman ধরণের প্রচলিত ফন্ট ব্যবহার করুন। এছাড়া ফন্টের সাইজ ও বড় রাখুন যাতে তা দূর থেকে পড়তে কোন সমস্যা না হয়।
প্রেজেন্টেশনে অডিও এবং ভিডিও যোগ করুনঃ
প্রাসঙ্গিক অডিও এবং ভিডিও আপনার প্রেজেন্টেশনকে নতুন মাত্রা এনে দিতে পারে। এছাড়া দর্শকদেরও রক্ষা করে একঘেয়েমি থেকে।
লেখায় এনিমেশন যোগ করার প্রবণতা বন্ধ করুনঃ
পাওয়ার পয়েন্টে অসংখ্য এনিমেশন রয়েছে যা লেখার সাথে যুক্ত করলে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে বলে ধারণা করা হয়। কোন বিনোদনমূলক প্রেজেন্টেশনের জন্য এনিমেটেড লেখা উপযুক্ত হলেও প্রফেশনাল প্রেজেন্টেশনের জন্য তা একেবারেই অনুপযুক্ত। যতক্ষণ এনিমেশন থেমে লেখাটি স্থির না হচ্ছে ততক্ষণ কেউই তা পড়তে পারেন না, নষ্ট হয় অমূল্য সময়। তাই লেখায় এনিমেশন যোগ করা থেকে বিরত থাকুন।
সর্বোপরি, আপনার প্রেজেন্টেশনকে যতটা সম্ভব সহজ এবং সাধারণ রাখতে চেষ্টা করুন। কারণ প্রেজেন্টেশনের মূল উদ্দেশ্যে কোন বিষয়কে দর্শকের কাছে সহজ করে তোলা।

কি কি পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি একটি আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন সেইটা জানতে পারলেন। কিন্তু প্রেজেন্টেশন কিভাবে তৈরি করবেন ও উপস্থাপন করবেন সেইটা জানেন? আসুন জেনে নিই কিভাবে প্রেজেন্টেশন কিভাবে তৈরি করবেন ও উপস্থাপন করবেন।
দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এবং কলেজে প্রেজেন্টেশন আজকাল অপরিহার্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে এই প্রেজেন্টেশন চর্চা পরবর্তী কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন করার সময় বেশ কিছু ভুল লক্ষ্য করা যায় যা অনেক সময় শিক্ষকদেরও নজর এড়িয়ে যায়। এই লেখায় আলোচনা করা হবে শিক্ষার্থীরা প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং উপস্থাপনের সময় কোন কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবেন।
প্রেজেন্টেশন তৈরিঃ

প্রেজেন্টেশনের তথ্য নিজে সংগ্রহ করুনঃ
যে বিষয়ের উপর আপনাকে প্রেজেন্টেশন করতে হবে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় ক্লাসের অল্প কিছু শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে, আর অন্যেরা শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য জেনে নেয়। ফলে প্রেজেন্টেশনের মান খারাপ হয়।
স্লাইড তৈরি করুন পরিচ্ছন্নভাবেঃ
প্রেজেন্টেশনের জন্য স্লাইড তৈরির সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যেই অতিমাত্রায় রঙ্গিন ব্যাকগ্রাউন্ড, দৃষ্টিকটু ফন্ট, প্রচুর এনিমেশন ব্যবহার ইত্যাদি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এসব কোনভাবেই প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করে না। মনে রাখা দরকার স্লাইড নয়, আপনার জ্ঞানই পারে একটি প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে।
স্লাইড যেভাবে প্রস্তুত করবেনঃ
পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরির সময় যেসব বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেনঃ
• স্লাইডে আপনার সংগৃহীত সব তথ্য কপি পেস্ট করবেন না। শুধুমাত্র মূল অংশ বা কি-পয়েন্টগুলো স্লাইডে রাখুন। বাকি তথ্য উপস্থাপন করতে হবে মুখে বলে।
• স্লাইডের শিরোনাম রাখুন উপরের অংশে। এর পর গুরুত্ব অনুযায়ী কি-পয়েন্টগুলো লিখুন। এক্ষেত্রে বুলেট পয়েন্ট এর ব্যবহার স্লাইডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
• অতিরিক্ত স্লাইড ব্যবহার দর্শকদের বিরক্তি সৃষ্টি করে, তাই এই ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। এছাড়া আপনার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার করুন স্লাইডে।
উপস্থাপন পদ্ধতিঃ

পোশাক নির্বাচনঃ
খুব ফ্যাশনেবল পোশাক পরে প্রেজেন্টেশন করার প্রবণতা অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যেই দেখা যায়। অনেক সময় প্রেজেন্টেশন এর চেয়ে কে কি পোশাক পড়লো সেটাই মুখ্য হয়ে পড়ে। প্রেজেন্টেশন যেহেতু আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের অনুশীলন, তাই কর্মক্ষেত্রে যেমন শালীন পোশাক পরিধান করতে হয় তেমনটাই পরুন। এতে আপনি শিক্ষকদের সুদৃষ্টিও পাবেন সহজেই।
যেভাবে প্রেজেন্টেশন করবেনঃ
স্লাইডে থাকবে শুধুমাত্র কি-পয়েন্ট গুলো। তাই স্লাইড দেখে দেখে প্রেজেন্টেশন করার প্রবণতা ত্যাগ করুন। প্রেজেন্টেশনের বেশ কিছুদিন আগে থেকে কিভাবে কথা বলবেন, কি কি তথ্য উপস্থাপন করবেন তা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চর্চা করুন। তথ্য ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে ছোট কাগজে লিখে হাতে রাখতে পারেন, এছাড়াও পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইডের নিচে নোট রাখার অপশন রয়েছে।
বাচন ভঙ্গি ও বডি ল্যাংগুয়েজঃ
• প্রেজেন্টেশন করার সময় উচ্চ স্বরে, স্পষ্টভাবে কথা বলুন। এতে আপনার কথা ক্লাসের শেষ বেঞ্চ থেকে শোনা যাবে।
• অহেতুক হাত নড়াচড়া না করে সামনে রাখুন। কখনোই পকেটে হাত রাখবেন না। এছাড়া বিভিন্ন চার্ট , টেবিল এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাত দিয়ে নির্দেশ করতে পারেন।
• কথা বলার সময় শুধুমাত্র শিক্ষকের দিকে বা নির্দিষ্ট কারো দিকে না তাকিয়ে পালাক্রমে ক্লাসে উপস্থিত সবার দিকে তাকান। এতে সবাই আপনার প্রেজেন্টেশনে মনোযোগী হয়ে উঠবে।
জড়তা কাটান, আত্মবিশ্বাসী হোনঃ
সব প্রস্তুতি নেয়ার পরেও এত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের সামনে প্রেজেন্টেশন করার সময় জড়তা আসা স্বাভাবিক। আত্মবিশ্বাসী হোন, কারণ যাদের সামনে আপনি উপস্থাপন করছেন তারা আপনারই বন্ধু, সবারই সমান যোগ্যতা। আর শিক্ষক তো রয়েছেন আপনাকে শেখানোর জন্য। তাঁকে ভয় পাবেন না। প্রেজেন্টেশন শুরু করার আগে পানি পান করে নিন, তাহলে গলা শুকিয়ে যাবে না। এর পর গভীর ভাবে কিছুক্ষণ শ্বাস নিয়ে শুরু করুন প্রেজেন্টেশন।
আশা করি প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে আপনাদের কোন প্রশ্ন আর থাকলো না। আপনি যদি উপরিক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে উপস্থাপনা করেন তাহলে আপনি অবশ্যই ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
আর্টিকেলটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী দিনে ভালো কিছু নিয়ে লেখার আশা ব্যক্ত করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

|| Design by Mamunur Rashid ||

Payment
গ্রাফিক ডিজাইন ওয়েব ডিজাইন আউটসোর্সিং এম এস অফিস কম্পিউটার টিপস ফটো এডিটিং
thumbnail

প্রেজেন্টেশন তৈরির আগে আপনার করনীয়

অফিস বা ক্লাসে পাওয়ার পয়েন্টে তৈরি প্রেজেন্টেশন আজকাল অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যে কোন সাধারণ বিষয়কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করে তুলতে পারে অত্যন্ত আকর্ষণীয় অথবা দুর্বোধ্য বিষয়কে করে তুলতে পারে সহজে। এই পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরিতে আমরা কিছু সাধারণ ভুল করে থাকি যা মনোযোগ নষ্ট করে দর্শকের। তাই জেনে নিন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির কিছু প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কে।
ঘরে বসে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন

ই-লার্ন বাংলাদেশ এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স করুন

বিভিন্ন বিষয় শিখতে এখন আর ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে ঘরে বসেই শিখুন বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল মানের কাজ।

বিস্তারিত পড়ুন
সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশনের জন্য একটি টেম্পলেট নির্বাচন করুনঃ
এক এক স্লাইডে এক এক ডিজাইনের টেম্পলেট, আপনার প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করার চেয়ে অসুন্দরই করে তুলে বেশি। তাই একটি মার্জিত এবং দৃষ্টিনন্দন টেম্পলেট নির্বাচন করুন সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশনের জন্য।
কালো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করবেন নাঃ
কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা অথবা অন্যান্য রঙ কম্পিউটারে স্পষ্ট বুঝা গেলেও যখন প্রজেক্টর দিয়ে উপস্থাপন করা হয় তখন তা ঝাপসা হয়ে পড়ে। তাই কালো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স ব্যবহার করুনঃ
শুধুমাত্র লেখা দিয়ে স্লাইড পূর্ণ না করে, উপযুক্ত স্থানে চার্ট, টেবিল, গ্রাফ ইত্যাদি যোগ করুন। এতে আপনার প্রেজেন্টেশনের প্রতি দর্শকের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে ভিডিও টি দেখুন

আরও ভিডিও
বিজ্ঞাপন
ছবি যোগ করুনঃ
একটি উপযুক্ত ছবি অসংখ্য কথার চেয়ে বেশি মনোভাব প্রকাশ করতে পারে। তাই স্লাইডে প্রাসঙ্গিক ছবি যোগ করুন। তবে অতিরিক্ত ছবি দর্শকের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে তাই সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।
ফন্ট নির্বাচনে সতর্ক হনঃ
প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করার জন্য অনেক সময় আমরা কম প্রচলিত ফন্ট ব্যবহার করি বা ইন্টারনেট থেকে ফন্ট ডাউনলোড করে নিই। যদি কম্পিউটার পরিবর্তন হয় তখন দেখা যায় সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশনটিই এলোমেলো হয়ে পড়েছে। তাই, Arial বা Times new roman ধরণের প্রচলিত ফন্ট ব্যবহার করুন। এছাড়া ফন্টের সাইজ ও বড় রাখুন যাতে তা দূর থেকে পড়তে কোন সমস্যা না হয়।
প্রেজেন্টেশনে অডিও এবং ভিডিও যোগ করুনঃ
প্রাসঙ্গিক অডিও এবং ভিডিও আপনার প্রেজেন্টেশনকে নতুন মাত্রা এনে দিতে পারে। এছাড়া দর্শকদেরও রক্ষা করে একঘেয়েমি থেকে।
লেখায় এনিমেশন যোগ করার প্রবণতা বন্ধ করুনঃ
পাওয়ার পয়েন্টে অসংখ্য এনিমেশন রয়েছে যা লেখার সাথে যুক্ত করলে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে বলে ধারণা করা হয়। কোন বিনোদনমূলক প্রেজেন্টেশনের জন্য এনিমেটেড লেখা উপযুক্ত হলেও প্রফেশনাল প্রেজেন্টেশনের জন্য তা একেবারেই অনুপযুক্ত। যতক্ষণ এনিমেশন থেমে লেখাটি স্থির না হচ্ছে ততক্ষণ কেউই তা পড়তে পারেন না, নষ্ট হয় অমূল্য সময়। তাই লেখায় এনিমেশন যোগ করা থেকে বিরত থাকুন।
সর্বোপরি, আপনার প্রেজেন্টেশনকে যতটা সম্ভব সহজ এবং সাধারণ রাখতে চেষ্টা করুন। কারণ প্রেজেন্টেশনের মূল উদ্দেশ্যে কোন বিষয়কে দর্শকের কাছে সহজ করে তোলা।

কি কি পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি একটি আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারেন সেইটা জানতে পারলেন। কিন্তু প্রেজেন্টেশন কিভাবে তৈরি করবেন ও উপস্থাপন করবেন সেইটা জানেন? আসুন জেনে নিই কিভাবে প্রেজেন্টেশন কিভাবে তৈরি করবেন ও উপস্থাপন করবেন।
দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এবং কলেজে প্রেজেন্টেশন আজকাল অপরিহার্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে এই প্রেজেন্টেশন চর্চা পরবর্তী কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন করার সময় বেশ কিছু ভুল লক্ষ্য করা যায় যা অনেক সময় শিক্ষকদেরও নজর এড়িয়ে যায়। এই লেখায় আলোচনা করা হবে শিক্ষার্থীরা প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং উপস্থাপনের সময় কোন কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবেন।
প্রেজেন্টেশন তৈরিঃ

প্রেজেন্টেশনের তথ্য নিজে সংগ্রহ করুনঃ
যে বিষয়ের উপর আপনাকে প্রেজেন্টেশন করতে হবে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় ক্লাসের অল্প কিছু শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে, আর অন্যেরা শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য জেনে নেয়। ফলে প্রেজেন্টেশনের মান খারাপ হয়।
স্লাইড তৈরি করুন পরিচ্ছন্নভাবেঃ
প্রেজেন্টেশনের জন্য স্লাইড তৈরির সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যেই অতিমাত্রায় রঙ্গিন ব্যাকগ্রাউন্ড, দৃষ্টিকটু ফন্ট, প্রচুর এনিমেশন ব্যবহার ইত্যাদি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এসব কোনভাবেই প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করে না। মনে রাখা দরকার স্লাইড নয়, আপনার জ্ঞানই পারে একটি প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে।
স্লাইড যেভাবে প্রস্তুত করবেনঃ
পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরির সময় যেসব বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেনঃ
• স্লাইডে আপনার সংগৃহীত সব তথ্য কপি পেস্ট করবেন না। শুধুমাত্র মূল অংশ বা কি-পয়েন্টগুলো স্লাইডে রাখুন। বাকি তথ্য উপস্থাপন করতে হবে মুখে বলে।
• স্লাইডের শিরোনাম রাখুন উপরের অংশে। এর পর গুরুত্ব অনুযায়ী কি-পয়েন্টগুলো লিখুন। এক্ষেত্রে বুলেট পয়েন্ট এর ব্যবহার স্লাইডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
• অতিরিক্ত স্লাইড ব্যবহার দর্শকদের বিরক্তি সৃষ্টি করে, তাই এই ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। এছাড়া আপনার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার করুন স্লাইডে।
উপস্থাপন পদ্ধতিঃ

পোশাক নির্বাচনঃ
খুব ফ্যাশনেবল পোশাক পরে প্রেজেন্টেশন করার প্রবণতা অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যেই দেখা যায়। অনেক সময় প্রেজেন্টেশন এর চেয়ে কে কি পোশাক পড়লো সেটাই মুখ্য হয়ে পড়ে। প্রেজেন্টেশন যেহেতু আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের অনুশীলন, তাই কর্মক্ষেত্রে যেমন শালীন পোশাক পরিধান করতে হয় তেমনটাই পরুন। এতে আপনি শিক্ষকদের সুদৃষ্টিও পাবেন সহজেই।
যেভাবে প্রেজেন্টেশন করবেনঃ
স্লাইডে থাকবে শুধুমাত্র কি-পয়েন্ট গুলো। তাই স্লাইড দেখে দেখে প্রেজেন্টেশন করার প্রবণতা ত্যাগ করুন। প্রেজেন্টেশনের বেশ কিছুদিন আগে থেকে কিভাবে কথা বলবেন, কি কি তথ্য উপস্থাপন করবেন তা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চর্চা করুন। তথ্য ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে ছোট কাগজে লিখে হাতে রাখতে পারেন, এছাড়াও পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইডের নিচে নোট রাখার অপশন রয়েছে।
বাচন ভঙ্গি ও বডি ল্যাংগুয়েজঃ
• প্রেজেন্টেশন করার সময় উচ্চ স্বরে, স্পষ্টভাবে কথা বলুন। এতে আপনার কথা ক্লাসের শেষ বেঞ্চ থেকে শোনা যাবে।
• অহেতুক হাত নড়াচড়া না করে সামনে রাখুন। কখনোই পকেটে হাত রাখবেন না। এছাড়া বিভিন্ন চার্ট , টেবিল এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাত দিয়ে নির্দেশ করতে পারেন।
• কথা বলার সময় শুধুমাত্র শিক্ষকের দিকে বা নির্দিষ্ট কারো দিকে না তাকিয়ে পালাক্রমে ক্লাসে উপস্থিত সবার দিকে তাকান। এতে সবাই আপনার প্রেজেন্টেশনে মনোযোগী হয়ে উঠবে।
জড়তা কাটান, আত্মবিশ্বাসী হোনঃ
সব প্রস্তুতি নেয়ার পরেও এত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের সামনে প্রেজেন্টেশন করার সময় জড়তা আসা স্বাভাবিক। আত্মবিশ্বাসী হোন, কারণ যাদের সামনে আপনি উপস্থাপন করছেন তারা আপনারই বন্ধু, সবারই সমান যোগ্যতা। আর শিক্ষক তো রয়েছেন আপনাকে শেখানোর জন্য। তাঁকে ভয় পাবেন না। প্রেজেন্টেশন শুরু করার আগে পানি পান করে নিন, তাহলে গলা শুকিয়ে যাবে না। এর পর গভীর ভাবে কিছুক্ষণ শ্বাস নিয়ে শুরু করুন প্রেজেন্টেশন।
আশা করি প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে আপনাদের কোন প্রশ্ন আর থাকলো না। আপনি যদি উপরিক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে উপস্থাপনা করেন তাহলে আপনি অবশ্যই ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
আর্টিকেলটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী দিনে ভালো কিছু নিয়ে লেখার আশা ব্যক্ত করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

আপনার মতামত লিখুনঃ