Limited-Time Discount | Enroll today and learn risk-free with our 30-day money-back guarantee.

Login

SIGN UP for FREE

ORDER NOW

Login
thumbnail

লোগো তৈরীর আগে আপনার যে বিষয়গুলো জানা উচিত

ঘরবাড়ি বিষয়ক লোগো তৈরীর সময় প্রথমেই আপনি যা ভাবেন তা হচ্ছে, দোচালা ছাদ, কার্নিস, জানালা কিংবা বাক্সের মত বিল্ডিং। এমন কিছু যা দেখে সহজেই বোঝা যায় লোগোর পেছনের কোম্পানীর কাজ কি।কখনো ভেবে দেখেছেন কি আপনার মত লক্ষ লক্ষ ডিজাইনার একই কথা ভাবেন। ফল হচ্ছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লক্ষ লক্ষ লোগো যা মুলত একই। শুধুমাত্র রং পরিবর্তণ করেই এক কোম্পানীর লোগোকে অন্য কোম্পানীর লোগো বানানোর উদাহরনের অভাব নেই। অতি ব্যবহারের কারনে এদেরকে বলা হয় জেনেরিক লোগো।
ঘরে বসে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন

ই-লার্ন বাংলাদেশ এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স করুন

বিভিন্ন বিষয় শিখতে এখন আর ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে ঘরে বসেই শিখুন বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল মানের কাজ।

বিস্তারিত পড়ুন
ক্লায়েন্ট যদি এতে আপত্তি না করেন তাহলে এধরনের ডিজাইনে দোষের কিছু নেই। সমস্যা হয় যখন তিনি নতুন কিছু চান। এই চাওয়ার ধরন একেকজনের একেকরকম। কেউ বলেন নতুনত্ব চাই, কেউ বলেন ক্রিয়েটিভ লোগো চাই, কেউ বলেন ইউনিক লোগো চাই, কেউ বলেন ক্লিপআর্ট চাই না। এখানে ক্লিপআর্ট বলতে অন্য ছবি বুঝানো হয় না, এমন কি যা দেখে ক্লিপআর্ট মনে হতে পারে সেটাই বুঝায়।
জেনেরিক লোগো চিনতে সহায়তা করার জন্য কিছু উদাহরন দেখানো হচ্ছে এখানে।
প্রথম ছবিতে রয়েছে কয়েকটি জেনেরিক লোগোর ধরন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুঝানোর জন্য অর্থবিষয়ক লোগো, রিয়েল এষ্টেট লোগো, প্রযুক্তি-যোগাযোগ বুঝানোর জন্য বৃত্ত, গাড়ি, প্রকৃতি বুঝানোর জন্য গাছ এবং মানুষ কিংবা হাত, কিংবা সাধারনভাবে ব্যবহৃত নানাধরনের জ্যামিতিক আকৃতি।
সাধারনভাবে প্রশ্নটা অদ্ভুত মনে হলেও যারা এবিষয়ে কিছুটা পড়াশোনা করেছেন তারা দ্রতই বলবেন, আছে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি থেকে পাবলো পিকাসো পর্যন্ত সকলের ছবি নিখুত জ্যাতিমিক ছকে আকা। একসময় শিল্পীরা জ্যামিতিক ছকনির্ভর ছবিতে এতটাই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন যে অনেকে বলতেন শিল্পী হওয়ার জন্য স্কেল, কম্পাস থাকাই যথেস্ট।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে ভিডিও টি দেখুন

আরও ভিডিও
বিজ্ঞাপন
আর্শ্চজনকভাবে চিত্রকর্মের সাথে গনিতের এই সম্পর্ক প্রতিস্ঠা করে গেছেন ফিবোনাচি নামে একজন ইটালিয়ান গনিতবিদ, ১২০২ সালে। তার নামানুসারে একে বলা হয় ফিবোনাচি ফাংশন। ১৮৬০ সালে জার্মান পদার্থবিদ এবং মনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ থিওডোর ফেচনার দেখিয়েছেন সরল একটি অনুপাত প্রকৃতিতে সমতা রক্ষা করে। ফিবোনাচি ফাংশনকে আরো সরলভাবেভাবে বলা হয় গোল্ডেন রেশিও, কারন দুজনের পদ্ধতি একই অংক প্রকাশ করে। এর মান ফাই Φ (১.৬১৮০৩৩৯৮৮৭৪ ...) এর সমান।
এই সংখ্যার আসলে গুরুত্ব কি ?
বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে এর ব্যাখা দিয়ে থাকেন। কেউ বলেন স্বর্গিয়, কেউ বলেন প্রকৃতির ভারসাম্য এবং সৌন্দর্য এভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়। এই সুত্র ব্যবহার করে তৈরী চিত্রকর্ম, ডিজাইন, কম্পোজিশন, স্থাপত্য সবকিছুতে তাই এর ব্যবহার। হয়ত অবাক হতে পারেন শুনে, মিসরের পিরামিড থেকে শুরু করে বর্তমানের ক্রেডিট কার্ডের আকার, সবকিছুই এই নিয়মে তৈরী।
অত্যন্ত সরল একটি লোগোর উদাহরন দিয়ে দেখা যাক। কখনো ভেবে দেখেছেন কি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের লোগো এত সরল হওয়ার পরও সকলের পছন্দ কেন ?
সোনালী একটি আয়তক্ষেত্র, এর দৈর্ঘ এবং প্রস্থের অনুপাত ১.৬১। অর্থাত এটা গোল্ডেন রেশিও অনুযায়ী তৈরী। অন্যঅর্থে তারা বলছে, গোল্ডেন রেশিওর আয়তক্ষেত্র হচ্ছে এই প্রকৃতি। তাদের মুলমন্ত্র হচ্ছে প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের হিসেব বোঝা তুলনামুলক সহজ। সহজেই দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ জানা যায়। পেপসি কিংবা এপলের লোগো কিভাবে এই সুত্র মেনে তৈরী? আপাত দৃষ্টিতে এই লোগো গুলি প্রায় গোলাকার।
পেপসি লোগোর পুরো বৃত্ত এবং ভেতরের সাতা বাকানো অংশ লক্ষ্য করুন। সাদা অংশের সাথে মিল করে আরেকটি বৃত্ত আকলে দ্বিতীয় মাপ পাওয়া যাবে। এই দুই বৃত্তের অনুপাত ১.৬১৮, অর্থাত গোল্ডেন রেশিও।
টয়োটার লোগো আরেকটি ভাল উদাহরন হতে পারে। ৪টি উপবৃত্ত দিয়ে লোগোটি তৈরী। ছবিতে এদের আকার এবং দুরত্ব দেখে নিন। এর অনুপাত ১.৬১৮।
প্রশ্ন করতে পারেন, লোগো ডিজাইনের সময় কি এই হিসেব করে লোগো আকতে হবে?
সাধারনভাবে হয়ত প্রয়োজন নেই। কিন্তু কোন ক্লায়েন্ট যদি নির্দিষ্টভাবে বলে দেন তিনি গোল্ডেন রেশিওর লোগো চান (একাধিকবার এই বিষয়ের উল্লেখ পেয়েছি) তাহলে না করে উপায় নেই।
আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে চাকরী করেন এবং আপনাকে লোগো ডিজাইন করতে বলা হয় তাহলে কি করতে হবে সেটা যেমন বলা হবে তেমনি কাজের মধ্যে আপনি প্রশ্ন করে প্রয়োজন জেনে নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার একটি সমস্যা হচ্ছে আপনি এমন প্রশ্ন করতে পারেন না যা আপনার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ক্লায়েন্ট কি চান সেটা অবশ্যই প্রশ্ন করে জানবেন, তারপরও সেটা করতে হয় নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে লোগো ডিজাইনের সময় বেশকিছু বিষয় দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারেন। বিষয়গুলি এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিষয় সম্পর্কে জানুন
যে কোম্পানীর লোগো সেই কোম্পানী সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিন। শিশুদের কাজের সাথে সম্পর্কিত লোগোর সবকিছু একধরনের, পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের ধরন আরেক, আর প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানীর ধরন আরেক। তারসাথে মানানসই সবকিছু ব্যবহার করুন।
ক্লায়েন্টের চাহিদা জেনে নিন
ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে লোগো করাবেন একথা চিন্তা করার সময় সাধারনত ক্লায়েন্ট নিজেই লোগো সম্পর্কে একটি ধারনা তৈরী করে নেন। সেটা জানার চেষ্টা করুন। লোগোর প্রধান কয়েকটি ধরন হচ্ছে টেক্সট ভিত্তিক, আইকনভিত্তিক, ইলাষ্ট্রেটিভ ইত্যাদি। যে ধরনের লোগো তিনি চান ঠিক সেভাবেই কাজ করুন।
সঠিক রঙ ব্যবহার করুন
অধিকাংশ সময় ক্লায়েন্ট নির্দিস্ট কিছু রং ব্যবহার করতে চান। নিল-সবুজ এর সমম্বয় একটি সাধারন পছন্দ। এছাড়া প্রতিস্ঠানের ধরুন অনুযায়ী রং ভিন্ন হয়। শিশু বা মেয়েলী রং হিসেবে গোলাপী, ব্যাংক-বীমা প্রতিস্ঠানে ধুসর ইত্যাদি রং ব্যবহার করা হয়। নিজে থেকে না জানালে ক্লায়েন্টকে সরাসরি প্রশ্ন করুন তিনি কি-কি রং পছন্দ করেন।
সবসময় লোগোর একটি সাদা-কালো (গ্রেস্কেল) ভার্শন উদাহরন হিসেবে দেখান।
ক্লিপআর্ট/ষ্টকআর্ট ব্যবহার
আপনাকে কাজ করতে হবে ডিজাইনার হিসেবে কাজেই ধরে নেওয়া হয়েছে আপনি নিজেই ডিজাইন তৈরী করবেন। অনেকে কাজ সহজ করার জন্য ইন্টারনেট থেকে ক্লিপআর্ট ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে চান। এটা করবেন না। এমনকি কোন লোগোর অনুকরনও করবেন না। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত লোগো কোন একসময় সমস্যায় পড়বে। অবশ্য একথা বলা হচ্ছে না যে ডিজাইনাররা কখনোই একাজ করেন না। সম্ভবত প্রত্যেকেই কমবেশি অন্যের ডিজাইন দেখে নেন। সেক্ষেত্রে সেকাজ এমনভাবে করুন যেন সরাসরি নকল মনে না হয়।
ফন্ট ব্যবহার
ক্লায়েন্ট সাধারনত বলে দেন তিনি কোন ধরনের ফন্ট পছন্দ করেন। অধিকাংশ পছন্দ করেন এমন ফন্ট যা সহজে পড়া যায়, কেউ পছন্দ করেন জড়ানো-প্যাচানো ফন্ট। ক্লায়েন্টের পছন্দ জেনে ফন্ট ব্যবহার করুন।
সাধারনভাবে ইলাষ্ট্রেটরে টাইপ করলে অক্ষরগুলি অটো এলাইন হয়। ফলে এদের মধ্যে দুরত্ব কমবেশি মনে হয়। সঠিকভাবে দেখার জন্য অপটিক্যাল অপশন ব্যবহার করুন, তারপর প্রয়োজন হলে আউটলাইন করে বাকিটুকু ঠিক করে নিন।
ব্যবহারের যায়গার দিকে দৃষ্টি রাখুন
লোগো ব্যবহার হতে পারে ওয়েবসাইটে, লেটারহেড কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রে কিংবা টিসার্ট এর মত যায়গায়। যদি ছোট আকারে ব্যবহার করা হয় (যেমন বিজনেস কার্ড) তাহলে লোগোতে বেশি ডিটেল ব্যবহার করবেন না। যেমন সরু দাগ বা এমন ইমেজ যা ছোট করলে দেখা যাবে না। লোগোর ভাষায় ক্লিন এন্ড বোল্ড লোগো তৈরী করুন।
এই সবগুলি নিয়ম মানার পরও ক্লায়েন্টের চাহিদা ঠিকভাবে বুঝতে সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সহজ একটি পথ হচ্ছে ক্লায়েন্ট পছন্দের কোন লোগো সম্পর্কে জেনে নেওয়া।
আশা করি আমার ব্লগটি থেকে লোগো ডিজাইন করা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। আমাদের এরকম আরও ব্লগ পড়ার জন্য ই-লার্ন এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

|| Design by Mamunur Rashid ||

Payment
গ্রাফিক ডিজাইন ওয়েব ডিজাইন আউটসোর্সিং এম এস অফিস কম্পিউটার টিপস ফটো এডিটিং
thumbnail

লোগো তৈরীর আগে আপনার যে বিষয়গুলো জানা উচিত

ঘরবাড়ি বিষয়ক লোগো তৈরীর সময় প্রথমেই আপনি যা ভাবেন তা হচ্ছে, দোচালা ছাদ, কার্নিস, জানালা কিংবা বাক্সের মত বিল্ডিং। এমন কিছু যা দেখে সহজেই বোঝা যায় লোগোর পেছনের কোম্পানীর কাজ কি।কখনো ভেবে দেখেছেন কি আপনার মত লক্ষ লক্ষ ডিজাইনার একই কথা ভাবেন। ফল হচ্ছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লক্ষ লক্ষ লোগো যা মুলত একই। শুধুমাত্র রং পরিবর্তণ করেই এক কোম্পানীর লোগোকে অন্য কোম্পানীর লোগো বানানোর উদাহরনের অভাব নেই। অতি ব্যবহারের কারনে এদেরকে বলা হয় জেনেরিক লোগো।
ঘরে বসে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন

ই-লার্ন বাংলাদেশ এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কোর্স করুন

বিভিন্ন বিষয় শিখতে এখন আর ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে ঘরে বসেই শিখুন বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল মানের কাজ।

বিস্তারিত পড়ুন
ক্লায়েন্ট যদি এতে আপত্তি না করেন তাহলে এধরনের ডিজাইনে দোষের কিছু নেই। সমস্যা হয় যখন তিনি নতুন কিছু চান। এই চাওয়ার ধরন একেকজনের একেকরকম। কেউ বলেন নতুনত্ব চাই, কেউ বলেন ক্রিয়েটিভ লোগো চাই, কেউ বলেন ইউনিক লোগো চাই, কেউ বলেন ক্লিপআর্ট চাই না। এখানে ক্লিপআর্ট বলতে অন্য ছবি বুঝানো হয় না, এমন কি যা দেখে ক্লিপআর্ট মনে হতে পারে সেটাই বুঝায়।
জেনেরিক লোগো চিনতে সহায়তা করার জন্য কিছু উদাহরন দেখানো হচ্ছে এখানে।
প্রথম ছবিতে রয়েছে কয়েকটি জেনেরিক লোগোর ধরন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুঝানোর জন্য অর্থবিষয়ক লোগো, রিয়েল এষ্টেট লোগো, প্রযুক্তি-যোগাযোগ বুঝানোর জন্য বৃত্ত, গাড়ি, প্রকৃতি বুঝানোর জন্য গাছ এবং মানুষ কিংবা হাত, কিংবা সাধারনভাবে ব্যবহৃত নানাধরনের জ্যামিতিক আকৃতি।
সাধারনভাবে প্রশ্নটা অদ্ভুত মনে হলেও যারা এবিষয়ে কিছুটা পড়াশোনা করেছেন তারা দ্রতই বলবেন, আছে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি থেকে পাবলো পিকাসো পর্যন্ত সকলের ছবি নিখুত জ্যাতিমিক ছকে আকা। একসময় শিল্পীরা জ্যামিতিক ছকনির্ভর ছবিতে এতটাই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন যে অনেকে বলতেন শিল্পী হওয়ার জন্য স্কেল, কম্পাস থাকাই যথেস্ট।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে ভিডিও টি দেখুন

আরও ভিডিও
বিজ্ঞাপন
আর্শ্চজনকভাবে চিত্রকর্মের সাথে গনিতের এই সম্পর্ক প্রতিস্ঠা করে গেছেন ফিবোনাচি নামে একজন ইটালিয়ান গনিতবিদ, ১২০২ সালে। তার নামানুসারে একে বলা হয় ফিবোনাচি ফাংশন। ১৮৬০ সালে জার্মান পদার্থবিদ এবং মনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ থিওডোর ফেচনার দেখিয়েছেন সরল একটি অনুপাত প্রকৃতিতে সমতা রক্ষা করে। ফিবোনাচি ফাংশনকে আরো সরলভাবেভাবে বলা হয় গোল্ডেন রেশিও, কারন দুজনের পদ্ধতি একই অংক প্রকাশ করে। এর মান ফাই Φ (১.৬১৮০৩৩৯৮৮৭৪ ...) এর সমান।
এই সংখ্যার আসলে গুরুত্ব কি ?
বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে এর ব্যাখা দিয়ে থাকেন। কেউ বলেন স্বর্গিয়, কেউ বলেন প্রকৃতির ভারসাম্য এবং সৌন্দর্য এভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়। এই সুত্র ব্যবহার করে তৈরী চিত্রকর্ম, ডিজাইন, কম্পোজিশন, স্থাপত্য সবকিছুতে তাই এর ব্যবহার। হয়ত অবাক হতে পারেন শুনে, মিসরের পিরামিড থেকে শুরু করে বর্তমানের ক্রেডিট কার্ডের আকার, সবকিছুই এই নিয়মে তৈরী।
অত্যন্ত সরল একটি লোগোর উদাহরন দিয়ে দেখা যাক। কখনো ভেবে দেখেছেন কি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের লোগো এত সরল হওয়ার পরও সকলের পছন্দ কেন ?
সোনালী একটি আয়তক্ষেত্র, এর দৈর্ঘ এবং প্রস্থের অনুপাত ১.৬১। অর্থাত এটা গোল্ডেন রেশিও অনুযায়ী তৈরী। অন্যঅর্থে তারা বলছে, গোল্ডেন রেশিওর আয়তক্ষেত্র হচ্ছে এই প্রকৃতি। তাদের মুলমন্ত্র হচ্ছে প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের হিসেব বোঝা তুলনামুলক সহজ। সহজেই দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ জানা যায়। পেপসি কিংবা এপলের লোগো কিভাবে এই সুত্র মেনে তৈরী? আপাত দৃষ্টিতে এই লোগো গুলি প্রায় গোলাকার।
পেপসি লোগোর পুরো বৃত্ত এবং ভেতরের সাতা বাকানো অংশ লক্ষ্য করুন। সাদা অংশের সাথে মিল করে আরেকটি বৃত্ত আকলে দ্বিতীয় মাপ পাওয়া যাবে। এই দুই বৃত্তের অনুপাত ১.৬১৮, অর্থাত গোল্ডেন রেশিও।
টয়োটার লোগো আরেকটি ভাল উদাহরন হতে পারে। ৪টি উপবৃত্ত দিয়ে লোগোটি তৈরী। ছবিতে এদের আকার এবং দুরত্ব দেখে নিন। এর অনুপাত ১.৬১৮।
প্রশ্ন করতে পারেন, লোগো ডিজাইনের সময় কি এই হিসেব করে লোগো আকতে হবে?
সাধারনভাবে হয়ত প্রয়োজন নেই। কিন্তু কোন ক্লায়েন্ট যদি নির্দিষ্টভাবে বলে দেন তিনি গোল্ডেন রেশিওর লোগো চান (একাধিকবার এই বিষয়ের উল্লেখ পেয়েছি) তাহলে না করে উপায় নেই।
আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে চাকরী করেন এবং আপনাকে লোগো ডিজাইন করতে বলা হয় তাহলে কি করতে হবে সেটা যেমন বলা হবে তেমনি কাজের মধ্যে আপনি প্রশ্ন করে প্রয়োজন জেনে নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার একটি সমস্যা হচ্ছে আপনি এমন প্রশ্ন করতে পারেন না যা আপনার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ক্লায়েন্ট কি চান সেটা অবশ্যই প্রশ্ন করে জানবেন, তারপরও সেটা করতে হয় নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে লোগো ডিজাইনের সময় বেশকিছু বিষয় দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারেন। বিষয়গুলি এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিষয় সম্পর্কে জানুন
যে কোম্পানীর লোগো সেই কোম্পানী সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিন। শিশুদের কাজের সাথে সম্পর্কিত লোগোর সবকিছু একধরনের, পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের ধরন আরেক, আর প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানীর ধরন আরেক। তারসাথে মানানসই সবকিছু ব্যবহার করুন।
ক্লায়েন্টের চাহিদা জেনে নিন
ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে লোগো করাবেন একথা চিন্তা করার সময় সাধারনত ক্লায়েন্ট নিজেই লোগো সম্পর্কে একটি ধারনা তৈরী করে নেন। সেটা জানার চেষ্টা করুন। লোগোর প্রধান কয়েকটি ধরন হচ্ছে টেক্সট ভিত্তিক, আইকনভিত্তিক, ইলাষ্ট্রেটিভ ইত্যাদি। যে ধরনের লোগো তিনি চান ঠিক সেভাবেই কাজ করুন।
সঠিক রঙ ব্যবহার করুন
অধিকাংশ সময় ক্লায়েন্ট নির্দিস্ট কিছু রং ব্যবহার করতে চান। নিল-সবুজ এর সমম্বয় একটি সাধারন পছন্দ। এছাড়া প্রতিস্ঠানের ধরুন অনুযায়ী রং ভিন্ন হয়। শিশু বা মেয়েলী রং হিসেবে গোলাপী, ব্যাংক-বীমা প্রতিস্ঠানে ধুসর ইত্যাদি রং ব্যবহার করা হয়। নিজে থেকে না জানালে ক্লায়েন্টকে সরাসরি প্রশ্ন করুন তিনি কি-কি রং পছন্দ করেন।
সবসময় লোগোর একটি সাদা-কালো (গ্রেস্কেল) ভার্শন উদাহরন হিসেবে দেখান।
ক্লিপআর্ট/ষ্টকআর্ট ব্যবহার
আপনাকে কাজ করতে হবে ডিজাইনার হিসেবে কাজেই ধরে নেওয়া হয়েছে আপনি নিজেই ডিজাইন তৈরী করবেন। অনেকে কাজ সহজ করার জন্য ইন্টারনেট থেকে ক্লিপআর্ট ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে চান। এটা করবেন না। এমনকি কোন লোগোর অনুকরনও করবেন না। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত লোগো কোন একসময় সমস্যায় পড়বে। অবশ্য একথা বলা হচ্ছে না যে ডিজাইনাররা কখনোই একাজ করেন না। সম্ভবত প্রত্যেকেই কমবেশি অন্যের ডিজাইন দেখে নেন। সেক্ষেত্রে সেকাজ এমনভাবে করুন যেন সরাসরি নকল মনে না হয়।
ফন্ট ব্যবহার
ক্লায়েন্ট সাধারনত বলে দেন তিনি কোন ধরনের ফন্ট পছন্দ করেন। অধিকাংশ পছন্দ করেন এমন ফন্ট যা সহজে পড়া যায়, কেউ পছন্দ করেন জড়ানো-প্যাচানো ফন্ট। ক্লায়েন্টের পছন্দ জেনে ফন্ট ব্যবহার করুন।
সাধারনভাবে ইলাষ্ট্রেটরে টাইপ করলে অক্ষরগুলি অটো এলাইন হয়। ফলে এদের মধ্যে দুরত্ব কমবেশি মনে হয়। সঠিকভাবে দেখার জন্য অপটিক্যাল অপশন ব্যবহার করুন, তারপর প্রয়োজন হলে আউটলাইন করে বাকিটুকু ঠিক করে নিন।
ব্যবহারের যায়গার দিকে দৃষ্টি রাখুন
লোগো ব্যবহার হতে পারে ওয়েবসাইটে, লেটারহেড কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রে কিংবা টিসার্ট এর মত যায়গায়। যদি ছোট আকারে ব্যবহার করা হয় (যেমন বিজনেস কার্ড) তাহলে লোগোতে বেশি ডিটেল ব্যবহার করবেন না। যেমন সরু দাগ বা এমন ইমেজ যা ছোট করলে দেখা যাবে না। লোগোর ভাষায় ক্লিন এন্ড বোল্ড লোগো তৈরী করুন।
এই সবগুলি নিয়ম মানার পরও ক্লায়েন্টের চাহিদা ঠিকভাবে বুঝতে সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সহজ একটি পথ হচ্ছে ক্লায়েন্ট পছন্দের কোন লোগো সম্পর্কে জেনে নেওয়া।
আশা করি আমার ব্লগটি থেকে লোগো ডিজাইন করা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। আমাদের এরকম আরও ব্লগ পড়ার জন্য ই-লার্ন এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

আপনার মতামত লিখুনঃ